Logo Logo

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জে বিএনপির কৌশলগত বার্তা, দুই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা


Splash Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের কৌশলগত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন, বিভ্রান্তি ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।


বিজ্ঞাপন


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র অনুযায়ী সুনামগঞ্জ–১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে নাছির উদ্দিন আহমদকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানানো হয়, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ত্যাগ, রাজপথের সংগ্রাম, মামলা-নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক শক্তিকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–১: ১৭ বছরের নির্যাতনের পর রাজপথের নেতা কামরুলই শেষ কথা

জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ–১ আসনে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এখানে কোনো আপস বা পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগ নেই, ত্যাগী রাজনীতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা, কারাবাস, হুলিয়া ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও কামরুজ্জামান কামরুল দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে রেখে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল যখন কঠিন সময় পার করেছে, তখনও তিনি মাঠ ছাড়েননি—এই বাস্তবতাই তাঁকে চূড়ান্ত মনোনয়নের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই চার উপজেলাজুড়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। তৃণমূলের কণ্ঠে একটাই বক্তব্য—

“এই মনোনয়ন আমাদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের স্বীকৃতি।”

সুনামগঞ্জ–২: শেষ নির্বাচনে আপসহীন যোদ্ধা নাছির উদ্দিনে আস্থা

দিরাই ও শাল্লা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ–২ আসনে বিএনপি ভরসা রেখেছে প্রবীণ, পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা নাছির উদ্দিন আহমদের ওপর। দলীয়ভাবে এটিকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম—প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে নাছির উদ্দিন আহমদ ছিলেন রাজপথে সক্রিয়। মামলা, নির্যাতন ও হয়রানি তাঁকে দমাতে পারেনি বলে দাবি দলীয় নেতাকর্মীদের।

মনোনয়ন ঘোষণার খবরে দিরাই ও শাল্লা উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মিছিল, স্লোগান ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্তকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উদযাপন করেন।

নির্বাচনী বার্তা: আপস নয়, এবার ফয়সালা

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে দলটি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং একদলীয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের বার্তা নিয়ে মাঠে নামছে। সুনামগঞ্জ–১ ও সুনামগঞ্জ–২—উভয় আসনেই তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করে কঠোর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর নাছির উদ্দিন আহমদ বলেন,

“এটা আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। জনগণের অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কামরুজ্জামান কামরুল ও নাছির উদ্দিন আহমদকে সামনে এনে বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই নির্বাচন আপসের নয়, এটি প্রতিরোধ ও অধিকার আদায়ের লড়াই। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও রাজপথে লড়াকু নেতাদের মনোনয়নের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...