Logo Logo

মেধা ও তারুণ্যের মেলবন্ধনে এনসিপির প্রার্থী তালিকায় চমক


Splash Image

গ্রাফিক্স : ভোরের বাণী।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রথাগত রাজনীতির ধারা ভেঙে তরুণ প্রজন্ম ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের ওপর ভরসা রেখে দলটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেধা ও তারুণ্যনির্ভর এই প্রার্থী তালিকাকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


বিজ্ঞাপন


এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর প্রায় ৭৩ শতাংশই তরুণ। তালিকায় সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী নোয়াখালী-৬ আসনের আবদুল হান্নান মাসউদ, যার বয়স মাত্র ২৬ বছর। অন্যদিকে, প্রবীণতম প্রার্থী নাটোর-৩ আসনের এস এম জার্জিস কাদির, যার বয়স ৬৪ বছর। রাজনীতিতে নতুন রক্ত সঞ্চালনের এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা গেছে, তালিকায় থাকা ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জন উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী দুই জন, স্নাতকোত্তর ১৭ জন, স্নাতক সাত জন এবং এইচএসসি ও অন্যান্য চার জন প্রার্থী রয়েছেন।

সাধারণত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। তবে এনসিপির তালিকায় বিভিন্ন পেশার মানুষের সুষম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৮ জন, শিক্ষক ৫ জন, আইনজীবী ৪ জন, সাংবাদিক ৩ জন, চিকিৎসক ও লেখক ২ জন করে এবং অন্যান্য পেশার (ব্যাংকার, পরামর্শক, কৃষি ও উন্নয়নকর্মী) ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

লিঙ্গ সমতা ও সংখ্যালঘু অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও নজর দিয়েছে দলটি। ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিম। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. শাহজাহান বলেন, “এনসিপির প্রার্থী তালিকাটি কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দীর্ঘকাল ধরে আমরা ‘পেশি শক্তি’ ও ‘পরিবারতন্ত্রের’ রাজনীতি দেখছি। এনসিপি তার বিপরীতে মেধা ও তারুণ্যনির্ভর বিকল্প উপস্থাপন করছে।”

তিনি আরও বলেন, “৭৩ শতাংশ তরুণ প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি একটি সাহসী পদক্ষেপ। রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে তরুণদের আটকে রাখা হয়, কিন্তু এনসিপি প্রমাণ করছে যে তারা আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতে বিশ্বাসী। ২৬ বছর বয়সী মাসউদ ও ৬৪ বছরের কাদিরের মধ্যে যে বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘তারুণ্যের উদ্দীপনা’ এবং ‘অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা’—এই দুটির একটি চমৎকার ভারসাম্য।”

শাহজাহান জানান, শিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা ৮৬ শতাংশ হওয়া এবং ব্যবসায়ীদের তুলনায় পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া খুবই ইতিবাচক। এতে নীতিনির্ধারণী বিতর্ক গবেষণানির্ভর ও তথ্যভিত্তিক হবে। শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর রাজনীতিতে আসা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে টেকনিক্যাল দক্ষতার প্রতিফলন ঘটাবে এবং ব্যবসায়ী নির্ভরতা কমালে স্বার্থের সংঘাত হ্রাস পাবে।

নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, এটি দলটির গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। যদিও নারী প্রতিনিধি সংখ্যা কম, তবে মেধা ও তারুণ্যের মধ্যে তাদের উপস্থিতি দলকে ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ইমেজ দিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, এনসিপির এই প্রার্থী তালিকা ভোটারদের একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে—রাজনীতি এখন আর কেবল প্রভাবশালীদের খেলা নয়, এটি শিক্ষিত ও যোগ্যদের সেবার ক্ষেত্র। এই মডেল সফল হলে, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...