বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিওতে ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা গেছে— বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেতে পারে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।
অডিওতে কূটনীতিক বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন— ছাত্রশিবিরের নেতাদের টিভি টকশোতে আনা যায় কি না এবং তারা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবে কি না।
কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশে শরীয়াহ আইন চালু করবে না। তবে যদি কোনোভাবে শরীয়াহ আইন কার্যকর করা হয়, তাহলে এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি হয় এই খাত থেকে। যদি নারীদের কাজের সময় সীমিত করা হয়, তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বা শরীয়াহ আইন চালু করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো পোশাকের অর্ডার দেবে না। অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও টিকবে না।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াত বাস্তবতা বোঝে বলেই শরীয়াহ আইন কার্যকর করবে না। কারণ দেশে উচ্চশিক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট বার্তা দেবে বলেও জানান তিনি।
অডিওতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র শুধু জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই নয়, প্রয়োজনে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারে। কূটনীতিকের বক্তব্য ছিল, এসব দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে প্রয়োজনে ফোন করে নিজেদের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত জানানো সহজ হবে।
এ বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, আলোচনাটি গত ডিসেম্বরে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসব আলোচনা সাধারণত প্রকাশের জন্য নয়। তিনি আরও বলেন, এ ইস্যু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানান, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ওয়াশিংটনে জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চারবার বৈঠক হয়েছে। ঢাকাতেও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছে জামায়াত।
আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক এমনিতেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ভারতের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো জামায়াতে ইসলামী। ভারত জামায়াতকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।”
এই অডিও প্রকাশের পর বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি আঞ্চলিক রাজনীতি, নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে— তা নিয়ে নানা মহলে চলছে বিশ্লেষণ।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...