বিজ্ঞাপন
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন আগামী ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারি ভারত সফর করবেন। এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেই এই ঐতিহাসিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় গাড়ি এবং মদের ওপর ভারতের উচ্চ আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এর ফলে ফক্সওয়াগন বা রেনল্টের মতো গাড়ি নির্মাতারা ভারতীয় বাজারে আরও শক্ত অবস্থান পাবে। বিনিময়ে ভারতের তৈরি পোশাক, গয়না, ইলেকট্রনিক্স ও রাসায়নিক পণ্যের জন্য ইউরোপের বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে। দিল্লির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, এই চুক্তির ফলে ভারত পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে।
বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে একটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এশীয় দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পর ভারতই হবে তৃতীয় দেশ, যাদের সঙ্গে ইউরোপ এই ধরনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে জড়াচ্ছে। এছাড়া দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘মবিলিটি এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরেরও কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করার পর ভারত এখন বিকল্প বড় বাজারের সন্ধানে মরিয়া। বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইইউ-এর সঙ্গে চুক্তিটি ভারতের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।
চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কার্বন ট্যাক্স এবং ভারতের জন্য কিছু বিশেষ শুল্ক সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহার নিয়ে নয়া দিল্লি কিছুটা উদ্বিগ্ন। জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় ভারতের প্রায় ১.৯৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কাটিয়ে উঠতে এই এফটিএ অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউ-এর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এটি অনুমোদিত হতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...