Logo Logo

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড : ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন


Splash Image

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছেন। ফলে যেকোনো দিন এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।


বিজ্ঞাপন


ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জবাব দেন। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা জবাব দিলে আদালত রায়ের দিন ধার্য না করে তা অপেক্ষমাণ রাখেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গেটের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশন পক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করে এবং ২৫ জানুয়ারি তা শেষ করে। তিন কার্যদিবসের এই প্রক্রিয়ায় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের অবস্থান ও ভূমিকা শনাক্ত করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৩০ জন আসামির প্রত্যেকেরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস প্রার্থনা করেন।

মঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে মামলার ৬ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবি’র সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত বছরের ২২ জুলাই চারজন ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় গত ২৭ আগস্ট, প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে। ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন, এবং ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা দিন থেকে শুরু করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন পুরো জাতি অপেক্ষা করছে আবু সাঈদ হত্যার ন্যায়বিচারের।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...