বিজ্ঞাপন
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বাজেটে নাগরিকত্ব আইনের এই সংশোধনী ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রধান লক্ষ্য হলো নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
ইতালি সরকারের ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ কার্যক্রমের আওতায় নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি ফাইল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেত, নতুন ব্যবস্থায় সব তথ্য জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে আবেদন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এছাড়া, যারা ১০ বছর বা তার বেশি সময় বৈধভাবে বসবাস করে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাদের তথ্য দ্রুত যাচাইয়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হবে। এতে অপ্রয়োজনে ফাইল আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকবে না। ‘ইতালিয়া ডিজিটাল ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় আগামী জুন মাসের মধ্যে পুরো সিস্টেমটি সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আবেদনকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে (SPID/CIE ব্যবহার করে) তাদের আবেদনের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
নতুন আইনে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব লাভের ক্ষেত্রে বড় সুযোগ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব ঘোষণার সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অনেক ক্ষেত্রে ২৫০ ইউরো আবেদন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সাধারণ অভিবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে যারা সিজনাল ভিসায় এসে পরবর্তীতে নিয়ম মেনে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা অনেক উপকৃত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইতালি সরকার এখন দক্ষ ও বৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিয়ে দেশটির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...