ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
বিজ্ঞাপন
গতকাল রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এই মন্তব্য করেন।
আরাগচি বলেন, “আমি যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কিত নই, বরং আমার মূল উদ্বেগ হলো ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের পরিস্থিতি যাচাইয়ের ভুল পদ্ধতি এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভরতা। নিশ্চিতভাবেই কিছু মহল বা গোষ্ঠী আছে যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের বিষয়ে আরাগচি জানান, আলোচনার প্রধান ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা। তবে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বের চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় সেই আস্থা হারিয়েছে ইরান।
তিনি বলেন, “বর্তমানে কিছু মিত্র দেশ মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে পুনরায় আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।”
সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন—‘নো নিউক্লিয়ার উইপন’ (কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়)। আমরা এই আহ্বানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমরা কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করব না। তবে বিনিময়ে ইরান চায় তাদের ওপর থেকে সকল অমানবিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এমন একটি কার্যকর সমঝোতা হতে পারে এবং সেই সুযোগ এখনো বিদ্যমান।”
সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তা হবে এক মহাবিপর্যয়। গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতটি মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ায় তা বড় আকার ধারণ করেনি। কিন্তু ইরানের ওপর সরাসরি মার্কিন হামলা হলে সেটি ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান’ যুদ্ধে রূপ নেবে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দাবানলের মতো সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান যেমন সমঝোতার বার্তা দিয়েছে, তেমনি যুদ্ধের উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র : এএনআই।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...