Logo Logo

ভেনেজুয়েলার পর এবার কিউবাকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম


Splash Image

ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাকে কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


বিজ্ঞাপন


তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কিউবার সরকার যদি ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য চুক্তিতে না আসে, তবে অচিরেই দেশটিকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কিউবা সংক্রান্ত তাঁর নতুন নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে কোনো দেশ কিউবায় তেল রপ্তানি করলে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হবে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম এই আদেশের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ও মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে পড়বে এবং একটি বড় আকারের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

মেক্সিকোর এই উদ্বেগের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কিউবা যদি আমাদের কাছে আসে এবং একটি সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে আমি মনে করি না কোনো বিপর্যয় ঘটবে। সেক্ষেত্রে সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, কিউবার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর তারা নির্ভরশীল ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।

গত ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঝটিকা সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সেনারা। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। এরপরই ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার এই পতনের ফলে কিউবার প্রধান জ্বালানি উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন চরম সংকটে পড়েছে।

কিউবার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প একটি নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, কিউবা যদি চুক্তিতে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক কিউবান নাগরিককে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ‘পুশ ইন’ করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করছি কিউবা অচিরেই সমঝোতায় আসবে। তা না হলে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিউবানদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক প্রভাব বলয় পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে ট্রাম্পের এই ‘চুক্তি অথবা বিপর্যয়’ নীতি অঞ্চলটির রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...