Logo Logo

বাংলাদেশের কাঁধে গুন্ডামি–সন্ত্রাস ও দুর্নীতির দুই ভূত চেপে বসেছে— মামুনুল হক


Splash Image

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের কাঁধে আজ দুটি ভয়াবহ ভূত চেপে বসেছে। একটি হলো গুন্ডামি ও সন্ত্রাসতন্ত্র, অন্যটি হলো দুর্নীতি ও লুটপাটতন্ত্র। এই দুই অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতেই এগার দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাটহাজারী উপজেলার পার্বতী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী রিকশা মার্কার মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনীরের পক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে শাসক পরিবর্তন হয়েছে বহুবার, কিন্তু শোষণের চরিত্র বদলায়নি। স্বাধীনতার আগে বিদেশি শাসকেরা এ দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যেত, আর এখন দেশের শাসকরাই এ দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে সন্ত্রাস ও গুন্ডামির মাধ্যমে জনগণের ব্যালটের রায় ছিনতাই করা হয় এবং ক্ষমতায় গিয়ে মেহনতি মানুষের ঘাম ঝরানো অর্থ ও জাতীয় রিজার্ভ বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া গড়ে তোলা হয়।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে পুরোনো দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির অবসান ঘটবে এবং গণমানুষের অধিকারভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারাই জীবন ও রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে। দেড় হাজার মা সন্তানহারা হয়েছেন, ত্রিশ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অথচ আজ সেই যোদ্ধারাই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থাকবে না; দেশের সম্পদ দিয়েই মানুষের ভাগ্য বদলাবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই বিপ্লবের কিছু সুবিধাভোগী আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে এবং চাঁদাবাজি ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় জানাতে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত দেশের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার লক্ষ্যে আজ ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এই জোটের পক্ষে সারাদেশে একটি ঐতিহাসিক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে নতুন প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে। মানুষ বলছে, অন্য সব দলকে বহুবার দেখা হয়েছে, এবার তারা ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে সুযোগ দিতে চায়। তিনি বলেন, দাড়িপাল্লা, রিকশা ও শাপলা কলিসহ জোটের প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ বছর ধরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের লোভ, সিন্ডিকেট, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির কারণে দেশ আজ ধ্বংসের মুখে। এসব অপশাসনে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোট একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়—যেখানে থাকবে ন্যায়, ইনসাফ, বৈষম্যহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জনগণের ঐক্য ও সচেতনতার কাছে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। তিনি হাটহাজারীতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী নাছির উদ্দীন মুনীরকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী নাছির উদ্দীন মুনীর বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণরায় দেবে। হাটহাজারীর উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ রিকশা মার্কাকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও ফটিকছড়ি আসনের ১১ জোট প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ নেজামী ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আলহাজ্ব আবদুর রহমান চৌধুরী, রাউজান আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জুসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শোয়াইব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াত যুব বিভাগের সভাপতি আসলাম মোরশেদ, এবি পার্টির মো. রিদওয়ান ও এনসিপির মো. এয়াকুব ওয়াসিফের সঞ্চালনায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...