বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই গ্রুপটির ব্যবসায়িক সংকট শুরু হয়। এই সুযোগে ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খন্দকার কোম্পানি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা না করে সুপরিকল্পিতভাবে অবসায়নের নামে লুটপাটের পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারখানার সুতা, কাপড়, তৈরি পোশাক ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি করে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্বিতীয় পর্যায়ে নাসা গ্রুপের জমি ও স্থাবর সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে এই চক্রের। বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের জমি মাত্র ২৫০ কোটি টাকায় বিক্রির নীল নকশা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই লেনদেনের মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ চক্র বিশাল অঙ্কের কমিশন নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। এমনকি আদালত ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই আইনজীবী খোরশেদ আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে।
এই কথিত লুটপাটের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নাসা গ্রুপের ৩০ হাজার শ্রমিক। মাসের পর মাস বেতন না পাওয়া এসব শ্রমিকের পাশাপাশি শতাধিক টেক্সটাইল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও চরম বিপাকে পড়েছে।
পাওনাদারদের অভিযোগ, সম্পদ কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হলে তাদের বকেয়া টাকা পাওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার শ্রমিকদের স্বার্থে যে ১৫০ কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছে, সেটি ফেরত পাওয়া নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এই সংকট উত্তরণে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছেন:
১। আদালত কর্তৃক স্বতন্ত্র প্রশাসক নিয়োগ।
২। অক্টোবর ২০২৪ থেকে আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট।
৩। স্বচ্ছ মূল্যায়ন ছাড়া সব ধরনের সম্পত্তি বিক্রি স্থগিত।
৪। দুর্নীতির অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত।
৫। ব্যাংক, সরবরাহকারী ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে ঋণদাতা কমিটি গঠন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনজীবী খোরশেদ আলম খন্দকার তাঁর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কেবল মানবিক কারণে শ্রমিকদের জন্য কাজ করছেন।
তবে নাসা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খন্দকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...