বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দলবাজি ও দখলদারির যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে স্পষ্ট যে দুর্নীতির কেবল হাতবদল হয়েছে, দমন হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচক (সিপিআই) ২০২৫-এর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম, যা গত বছর ছিল ১৪তম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দুর্নীতির তালিকায় বাংলাদেশের এক ধাপ অবনতি হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, ২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২৩ থেকে বেড়ে ২৪ হলেও এটি দুর্নীতি কমার লক্ষণ নয়। তিনি বলেন, "স্কোরের এই ১ পয়েন্ট উন্নতি কেবল জুলাই আন্দোলনের ফল, কারণ ওই আন্দোলনটি ছিল চোরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। গণঅভ্যুত্থানের পর শ্রীলঙ্কা ৩ পয়েন্ট উন্নতি করতে পারলেও বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থ হয়েছে।"
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দুটি দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিহত করা, কিন্তু সংস্কারের ক্ষেত্রে তাদের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক অপশক্তির কারণে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সরকার স্বচ্ছতার চর্চা করতে এবং অন্যদের মতামত মূল্যায়ন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যে ইশতেহার দিয়েছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন হলেই দুর্নীতি কমানো সম্ভব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "রাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিজের স্বার্থ আলাদা করতে হবে। ক্ষমতার ভেতরে বা বাইরে—যেখানেই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতি দমনে সক্রিয় হতে হবে এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় বা দায়মুক্তি বন্ধ করতে হবে।"
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ১০০ স্কোরের মধ্যে ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ডেনমার্ক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে, মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে সুদান ও সোমালিয়া।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পর্ষদের পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সাল থেকে টিআই এই সূচক প্রকাশ করে আসছে এবং ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...