বিজ্ঞাপন
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের পাশাপাশি পরাজিত প্রার্থীদেরও শুভেচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিজয়ীরা যেমন জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছেন, তেমনি যারা জয়ী হতে পারেননি তাদের ওপরও দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার আস্থা রেখেছেন—যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসী, রাজনৈতিক দল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। এই নির্বাচন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ছাত্র-জনতার অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে দেশ এক মহাসংকট থেকে মুক্তি পেয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্র যখন অচল ছিল, তখন তরুণদের আহ্বানে এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
দায়িত্ব পালনের ১৮ মাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো সচল করা ছিল সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা অশুভ শক্তির মোকাবিলা করে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনের যে তিনটি দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
বিগত সরকারের আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
বিদায়ী ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি, বরং এটি নতুন বাংলাদেশের এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সূচনা। আগামী দিনে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তি ঘটবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...