বিজ্ঞাপন
ঐতিহাসিক এই আয়োজনকে ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতারা বিজয়ী বেশে সংসদ ভবনের আঙিনায় পা রাখছেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা এমপিদের গাড়ি সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক সদস্যের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হচ্ছে।
রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে দলটি দীর্ঘ দুই দশক পর একক শক্তিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় আজ নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও কারচুপির অভিযোগে ফল প্রত্যাখ্যান করেছিল দলটি। তবে এবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদে ফিরছে তারা। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নবনির্বাচিত সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানের পর দুপুরে সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। প্রবীণ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন এই সংসদ দেশের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল আলোচনার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...