বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন। সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে বিএনপি এককভাবে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট।
এ ছাড়া নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় ও বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেলের মূল শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সকালের শপথে সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত সংসদ নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আবেদন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরবর্তীতে তাঁর মনোনীত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপনের লক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ দেশের ৬৪টি জেলায় বড় পর্দার মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে আজ দুপুর ১২টার পর থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং সংসদ এলাকাকে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অসংখ্য অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এর মাধ্যমে তিন দশক পর দেশ এক নতুন প্রধানমন্ত্রী ও নতুন ধারার সরকার পেতে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...