মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী বিমান যুদ্ধের পর ইরান বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা জোরদার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েল হামলার মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার পর ওয়াশিংটন যে সহজ জয়ের আশা করেছিল, পরিস্থিতি এখন তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব হারালেও ইরানের বিকেন্দ্রীকৃত ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ কৌশলের কারণে তাদের সামরিক কমান্ড ভেঙে পড়েনি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলী ভায়েজ বলেন, শাসনব্যবস্থা এখনও অটুট এবং তেহরান এখন যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কৌশলে এগোচ্ছে।
ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দুবাইয়ের মেরিনা এবং সাগরে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালাচ্ছে। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং শুরু হয়েছে জ্বালানি রেশনিং। তেলের জরুরি মজুত ছেড়েও পরিস্থিতির উন্নতি করা যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে রেশনিং শুরু হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেনিয়ার চা শিল্প থেকে শুরু করে বৈশ্বিক বিমান চলাচল—সবই এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম। ইসরায়েলি ও কানাডিয়ান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত অতি-আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং ইরানের কৌশলগত সক্ষমতা বুঝতে ভুল করেছে।
সামনে কংগ্রেস নির্বাচন থাকায় তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা আসন হারানোর আশঙ্কায় হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
ইরান দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়লেও এখনই বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষক নেট সোয়ানসন মনে করেন, ইরান সম্ভবত ট্রাম্পকে সহজে এই যুদ্ধ থেকে বের হতে দেবে না। বর্তমানে ট্রাম্পের সামনে দুটি কঠিন পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি স্থলযুদ্ধ শুরু করা অথবা ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে অভ্যন্তরীণ দাঙ্গা বাঁধানো। আপাতত আকাশপথে হামলা অব্যাহত থাকলেও এর আঁচ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বহুদূরে ছড়িয়ে পড়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...