বিজ্ঞাপন
সোমবার (৯ মার্চ) স্থানীয় সাংবাদিক হোসাইন মাহমুদ শাহীন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর এই অভিযোগ পেশ করেন। অভিযোগে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের বাদে-গোরেশপুর গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর দুই ছেলে—মিজান উদ্দিন এবং তার ভাই হেলাল উদ্দিন ওরফে মাসুম হেলালকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কথিত সাংবাদিক মাসুম হেলাল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি জেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রভাবিত করে এলাকাবাসীর মতামত ছাড়াই ২১ নম্বর পিআইসি প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়েছেন। এই প্রকল্পে তার আপন ভাই মিজান উদ্দিনকে সভাপতি এবং নিকটাত্মীয় মোজাহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি মূলত মাসুম হেলালের বাড়িতে যাওয়ার একটি গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের কাজ, যা ফসলরক্ষা বাঁধের আওতায় পড়ে না। ওই এলাকায় কোনো বোরো ফসল আবাদ হয় না এবং অতীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডও সেখানে কোনো বাঁধের প্রয়োজনীয়তা দেখেনি। প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ মঞ্জুর করা হলেও বাস্তবে মাত্র প্রায় এক লাখ টাকার মাটির কাজ করে বাকি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুপ রতন সিংহ এ বিষয়ে বলেন, “২১ নম্বর পিআইসিটি উপজেলা কমিটির নির্ধারিত এলাইনমেন্টের বাইরে ছিল। স্থানীয় প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে এটি অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা কমিটির সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামীমুল ইসলাম শামীম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেনও প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন। তারা জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই স্থানে কোনো পিআইসি অনুমোদন হয়নি এবং প্রকল্পের কোনো সাইনবোর্ডও সেখানে দেখা যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের বরাদ্দের একটি অংশ বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছে।
পিআইসি সদস্য মো. আবুল বশর জানান, উন্নয়নের কথা বলে তার কাছ থেকে কাগজপত্র নেওয়া হলেও তাকে কোনো কাজে রাখা হয়নি এবং সবকিছু মাসুম হেলাল ও তার ভাই নিয়ন্ত্রণ করছেন।
হাওর রক্ষা বাঁধের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...