Logo Logo

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ অসমাপ্ত, শঙ্কায় হাওরের কৃষকেরা


Splash Image

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ১৩৪টি প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে আগাম বন্যার আশঙ্কায় বোরো ফসল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।


বিজ্ঞাপন


নীতিমালা অনুযায়ী, গত ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। তবে মার্চ মাস শুরু হলেও অনেক স্থানে বাঁধের কাজ বাকি রয়ে গেছে। পিআইসি সদস্যদের অভিযোগ, চার কিস্তিতে অর্থ ছাড়ের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা কেবল প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে ধারদেনা করে কাজ চালিয়েছেন, কিন্তু পাওনাদারদের চাপে এখন কাজ বন্ধ রাখার উপক্রম হয়েছে।

মধ্যনগর ও ধর্মপাশার একাধিক পিআইসি সভাপতি জানান, টাকার অভাবে ভেকু মেশিনের ভাড়া ও শ্রমিকদের মজুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দাবি অনুযায়ী, দুই উপজেলায় বাঁধের কাজ গড়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, প্রকৃত কাজের অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি নয়। চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, কাইলানীসহ ৯টি হাওরের অন্তত ৩০টি প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক স্থানে বাঁধের স্লোপ, কমপ্যাকশন ও উচ্চতা নির্ধারণে ত্রুটি রয়েছে। কোথাও কোথাও কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

দুশ্চিন্তায় হাওরপাড়ের কৃষক

নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে হাওরপাড়ের মানুষের মনে। কৃষকদের দাবি, প্রতিবছরই বরাদ্দের অর্থ ছাড় নিয়ে টালবাহানা করা হয়, যার খেসারত দিতে হয় সাধারণ চাষিদের। দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ না হলে অতিবৃষ্টি বা আগাম বন্যায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় জানিয়েছেন, অর্থের অভাবে পিআইসিদের সমস্যার বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড় করা হবে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...