বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, "খাল আমাদের লাইফলাইন, অথচ অপরিকল্পিত ঘরবসতি ও দখলের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের খালের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ড্রেনেজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।"
রোববার (২২ মার্চ) ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় তুলাতুলির খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশব্যাপী নদী, নালা ও জলাধার খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, "অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের এই কৃষিপ্রধান অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য পানির বিকল্প নেই। নদীপথ সচল থাকলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হয় এবং সংলগ্ন বাজারগুলোও জমজমাট থাকে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাল খননের এই ধারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া তা অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনস্বার্থে আবারও সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খাল দখল প্রসঙ্গে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী চক্রকে দায়ী করে প্রতিমন্ত্রী তাদের বয়কট করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "সাধারণ কৃষক বা খেটে খাওয়া মানুষ খাল দখল করে না। দখল হওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করা আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি।" কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি নিজে তদারকি করবেন জানিয়ে জনগণকে কাজ বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। এছাড়াও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ১১ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ টাকা ব্যয়ে ৩.৪১ কিলোমিটার তুলাতুলির খাল খনন করা হবে। এছাড়া পুরো উপ-প্রকল্পের আওতায় ২৩.০৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ৬.৮৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং তিনটি কালভার্ট ও একটি অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমি সরাসরি উপকৃত হবে এবং প্রায় ১ হাজার ৮৮১টি পরিবার সুফল ভোগ করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...