বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মাড়ালা এলাকার আম্মকখালী বাঁধ এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের আলমখালী বাঁধ এখনো অসম্পূর্ণ ও অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত মাটি ব্যবহার না করায় বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। সামান্য ঢলের চাপেই এই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সদস্য জুয়েল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "বাঁধ নির্মাণে শুরু থেকেই অনিয়ম হয়েছে। পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় বাঁধগুলো শক্ত হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ না করলে সামান্য ঢলেই বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।"
শনির হাওরের কৃষক কালসম মিয়া ও সাকিল মিয়া জানান, এই হাওরের ফসল ডুবে গেলে তাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। একইভাবে মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক ও লতিফ মিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন এই অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, "পিআইসিরা বলছেন তারা ৪২ শতাংশ বিল পেয়েছেন, অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে কাজ ৯২ শতাংশ শেষ। এই অসংগতি বড় ধরনের রহস্য তৈরি করছে। কাজের মান নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।"
তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মনির হোসেন জানান, আলমখালী ছাড়া অন্যান্য বাঁধের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি না পাওয়ায় এবং কেউ কাজ নিতে আগ্রহী না হওয়ায় আলমখালী বাঁধে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দাবি করেন, বৃষ্টির কারণে আম্মকখালী বাঁধের কাজ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন তা দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। তার মতে, কাজ যথাযথভাবেই এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় বাড়ানোর পরও কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। চলতি বছরে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিবছর এই হাওরগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদিত হয়।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর তদারকির মাধ্যমে বাঁধগুলো সুরক্ষিত করা না হলে তাদের সারা বছরের স্বপ্ন এক নিমেষেই ভেসে যেতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...