Logo Logo

ইরান যুদ্ধ থেকে ফিরে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ


Splash Image

ইরান উপকূল ও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করা বিশ্বের বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। রণতরীটির লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় গুরুতর সংকটের কারণে সেটিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সামরিক ঘাঁটির দিকে পাঠানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপি মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে সংলাপ শুরু হলেও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে এই দুটি রণতরী থেকে অসংখ্য বিমান অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে গত ১২ মার্চ ইউএসএস ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে লাগা আগুনে দুইজন সেনা আহত হওয়া ছাড়াও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি জাহাজটির পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে টয়লেটের বর্জ্য উপচে আসায় অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রকৌশলী দলের মতে, মাঝ-সাগরে এই বিশাল জাহাজের মেরামত সম্ভব নয় বিধায় সেটিকে ডক-ইয়ার্ডে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি রণতরী একটানা সর্বোচ্চ ৬ মাস সাগরে অবস্থান করতে পারে। কিন্তু ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গত ৯ মাস ধরে টানা সাগরে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের আগে ৬ মাস ধরে এটি ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে জাহাজটির নাবিক ও সেনারাও চরম ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পেন্টাগন রণতরীটিকে গ্রিসের সৌদা উপসাগর হয়ে ক্রিট দ্বীপের মার্কিন ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শেষে জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারিত হবে।

সূত্র : এএফপি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...