Logo Logo

ছাতকে ‘চোর নির্মূল কমিটি’র বৈঠকের পর দুই বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, উত্তেজনা ছড়িয়ে থমথমে পরিস্থিতি


Splash Image

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জেরে ‘চোর নির্মূল কমিটি’র বৈঠকের পর উত্তেজিত জনতা দুইটি বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। বুধবার (তারিখ) দুপুরে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন গ্রামবাসী। কয়েক দফা সতর্কতা ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেও চুরি বন্ধ না হওয়ায় গ্রামবাসী চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রেক্ষাপটে ‘চোর নির্মূল কমিটি’র উদ্যোগে বুধবার সকালে মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দোলারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিটির সভাপতি আজিজুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন বাজার কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ কুরশি গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন। বৈঠকে এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন, কুরশি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন ব্যক্তি চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের সামাজিকভাবে সংশোধনের জন্য একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে আটজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হলেও এরপরও চুরির ঘটনা বন্ধ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর কুরশি গ্রামের দোলন মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির সময় মইনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যায়।

বুধবার সকালে বৈঠকে আটক সাইফুল ইসলাম দাবি করে, ঘটনার সময় তার সঙ্গে মইনপুর গ্রামের আবু হানিফা, দক্ষিণ কুরশি গ্রামের আলী হোসেন ও তারেক মিয়া ছিলেন। এ বক্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে দক্ষিণ কুরশি গ্রামের আলী হোসেন ও তারেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় দুটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী কোলে শিশুসন্তান নিয়ে হামলা বন্ধ করার অনুরোধ করছেন। কিন্তু উত্তেজিত জনতা ঢিল ছোড়া ও ভাঙচুর চালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে উপস্থিত কয়েকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন এবং ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়।

দোলারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, সকালে বিষয়টি জানতে পেরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু তরুণ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়।

জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং চুরির অভিযোগে আটক সাইফুল ইসলামকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের নামে আগেও একাধিক চুরির মামলা আছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়। বাড়িঘরে হামলার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। অনেকেই আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...