বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে আটটায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
উদ্বোধনের সাথে সাথেই উজানধল গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ এবং বাউল সম্রাটের কালজয়ী গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং শাহ আবদুল করিম স্মৃতি পরিষদের বাস্তবায়নে এই লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত এই উৎসবটি এবারও দেশি-বিদেশি ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় উজানধল গ্রাম এখন এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
এবারের লোকউৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামের মাঠে বসেছে শতাধিক বৈচিত্র্যময় দোকানপাট। দেশীয় খাবারের দোকান এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজনে উৎসবটি কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে একটি প্রাণবন্ত গ্রামীণ মেলায় রূপ নিয়েছে। শিল্পীরা মঞ্চে একের পর এক শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করলে উপস্থিত দর্শনার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করেন।
শাহ আবদুল করিম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বাউল শাহ নূর জালাল জানান, বাউল সম্রাটের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, "শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টিতে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য ও মানবতার চিরন্তন বার্তা রয়েছে। কালনী নদীর তীরে বসেই তিনি মাটির সুরে অসংখ্য কালজয়ী গান রচনা করেছেন, যা আজও মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হয়।"
সিলেটের কদমতলী থেকে আসা বাউলশিল্পী সৌমিতা ভট্টাচার্য প্রথমবারের মতো এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এখানে এসে দেখেছি সবাই শাহ আবদুল করিমের গানে মগ্ন। তাঁর গান মানুষের মুখে মুখে বেঁচে আছে এবং এই ধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শাহ আবদুল করিমের গান মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং আমাদের শুভ ও সুন্দর পথের দিশা দেখায়। তরুণ প্রজন্মকে তাঁর জীবন ও দর্শন সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দিরাইয়ের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান ও দর্শন রেখে গেছেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রয়াণ ঘটলেও তাঁর মানবতাবাদী চেতনা আজও বাঙালির হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...