বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের দ্বিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আসলাম শেখ। প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বিজয় হাসান বাবুলের ভাই মো. আক্তার হোসেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্যবসার পরিধি বাড়াতে আক্তার হোসেন ও তার সহযোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর সংযোগ লাইন কেটে দেন এবং গ্রাহকদের নিজেদের সংযোগ নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
গত ১৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে রুস্তুম শেখের বাড়িতে কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে আক্তার হোসেনসহ তিনজন বিদ্যুতের একটি তার কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে টিনের ঘরের ওপর তার পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আশপাশের কয়েকটি ঘরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হন।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে আক্তার হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার ছয় দিন পর, ২৫ মার্চ, আক্তার হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় সৌদি আরব প্রবাসী সামসুল মোল্যা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দীনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রবাসী সামসুল মোল্যা অভিযোগ করেন, তিনি ঘটনাস্থলে পরে গেলেও তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা তার বিদেশ যাত্রায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দীন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে লাইন কাটা ও হয়রানিতে মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল। ঘটনার দিন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, ইউপি সদস্য বিজয় হাসান বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। সেদিন লাইন কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি, বরং সংযোগ দিতে গিয়েছিল। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই হামলা হয়েছে।”
কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর হোসেন জানান, ডিস ও ওয়াই-ফাই ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। বিদ্যুতের তার কাটা নিয়ে দুর্ঘটনার পর গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...