Logo Logo

প্রভাবশালীদের দখলে মাটি বাণিজ্য, নীরব প্রশাসন, হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষি, ক্ষোভ স্থানীয়দের


Splash Image

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নদীর পাড় ও ফসলি জমির টপসয়েল কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাটশিরা বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীর পাড় ও কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ফতেপুর গ্রামের আসাদ মিল্কীসহ কয়েকজন এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে দিনের পর দিন অবাধে চলছে মাটি কাটা ও বিক্রির এই কার্যক্রম।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন হাটশিরা বাজারের আশপাশের সড়ক দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মাটি বোঝাই লরি ও ট্রাক্টর চলাচল করছে। এতে একদিকে যেমন এলাকার সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দিন-রাত মাটি পরিবহনের কারণে জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদীর পাড় কাটার ফলে ভবিষ্যতে ভাঙনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত আসাদ মিল্কী বলেন, “আমরা নদীর পাড়ের পাশে ফসলি জমির মাটি কাটছি, তবে নদীর পাড় কাটছি না।”

তবে মাটি কাটার কোনো বৈধ অনুমতি আছে কি না—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব তিনি দেননি।

এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মির্জা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,

“মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিতে অফিসের পিয়নকে পাঠানো হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, “ফতেপুর ইউনিয়নে মাটি কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি। মাটি কাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি চললেও কেন তা বন্ধ করা যাচ্ছে না? দ্রুত অভিযান চালিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...