Logo Logo

দুপুরে আটক ,গভীর রাতে সাজা মোবাইল কোর্টের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন?


Splash Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক ৩ জনকে ইউএনও কার্যালয়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টায় কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে গাঁজা সেবনের অভিযোগে কাশিয়ানী থানার রামদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন দুই সহোদর তৈয়ব শেখ ও তাহের শেখসহ ৩ যুবককে আটক করেন। আইন অনুযায়ী, পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত মামলায় আদালতে সোপর্দ করার বিধান রয়েছে। এটি ভঙ্গ করে তাদের গভীর রাতে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়ার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটক ৩ জনকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২শ' টাকা করে জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, অপরাধ ম্যাজিস্ট্রেটের ‘সম্মুখে’ সংঘটিত হতে হবে অথবা ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। থানার হাজত থেকে আসামিকে তুলে এনে গভীর রাতে দপ্তরে সাজা দেওয়াকে ‘বেআইনি’ ও ‘প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন কাশিয়ানীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

উচ্চ আদালতের একাধিক নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল কোর্ট কোনোভাবেই ‘বেঞ্চ কোর্ট’ বা নিয়মিত আদালতের বিকল্প নয়। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের মতো জটিল বিষয়ে আসামিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে । এখানে সেটি করা হয়নি। এছাড়া কোনো বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়াই প্রশাসনিক দপ্তরে বিচারকার্য পরিচালনা করা বেআইনি বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

আটকের ব্যাপারে এসআই নাসির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, 'সার্কেল অফিসের দেয়া তালিকা অনুযায়ী ৩ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে কাশিয়ানী থানায় হস্তান্তর করা হয় । এর বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না।'

কাশিয়ানী থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “রামদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার এসআই নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ৩ যুবককে মাদক গ্রহণরত অবস্থায় গ্রেফতার করে কাশিয়ানী থানায় নিয়ে আসে। আমরা বিষয়টি ইউএনওকে জানাই । পরবর্তীতে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও ইউএনও পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, “থানা থেকে বিষয়টি জানানো হলে আমি ইউএনও কার্যালয়ের বাইরে মাঠে আসামিদের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করি। পরে রাত ১১টার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে মোবাইল কোর্টের লিখিত প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে বিচার সম্পন্ন করা হয়।

মোবাইল কোর্টের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ ও অভিযানের ভিত্তিতে মাদক সেবনের বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয়। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম শুধু ঘটনাস্থলেই সীমাবদ্ধ নয়, অভিযুক্তদের আটক করে উপস্থিত করার পর ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অফিসিয়াল আদেশ ও নথিপত্র কার্যালয়ে বসে প্রস্তুত করা হয়, যা আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে সংশ্লিষ্ট পুলিশের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বক্তব্য শোনা হয় এবং তারা স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করে। এ ক্ষেত্রে মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ২০ দিনের কারাদণ্ড এবং ২শ' টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত আইনের আওতায় বৈধ শাস্তি বলে তিনি জানান।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না-তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...