Logo Logo

বোনদের ওয়ারিশ সম্পত্তি দখলে বাধা, হামলা ও প্রান নাশের হুমকি- অভিযোগ আপন ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে


Splash Image

ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম আরেফিন আসাদের বিরুদ্ধে পিতার ওয়ারিশ সম্পত্তির অধিকার থেকে বোন ও ভাইদের বঞ্চিত করে জবরদখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ওয়ারিশের বন্টনকৃত জমি দখল বুঝ নিতে গেলে আসাদ ও তার দুই পুত্র জয় ও জিসান মিলে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে একাধিকবার আহত ও জখম করেছে তাদের। এমনকি আপন ভাই মৃত গোলাম মোস্তফা আলাউদ্দিন মিয়াকে ওয়ারিশ না রেখেই জমি রেকর্ড করে জোর করে ভোগ দখল করছে।


বিজ্ঞাপন


বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা করা সহ স্থানীয়ভাবে কয়েকদফা সালিশ করেও বোনদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না আসাদ।

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার দীর্ঘদিনের আলোচিত ঘটনা এটি। মৃত লুতফর রহমান ৫ ও পুত্র ও ৯ কন্যা এবং এক স্ত্রী রেখে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি বসত ভিটায় ৮ শতাংশ, ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ৮৪ শতাংশ এবং অম্বিকাপুর বাজারে ১৫ শতাংশ জমি রেখে যান।

মৃত লুতফর রহমানের পুত্র আসাদ তার ভাই ও বোনদের সম্পত্তি একাই ভোগদখল করে আছেন। নিজের সন্তান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মৎসলীগ নেতা জয় ও জিসানকে দিয়ে বোন, ভাই, ভাজতি ভাগিনাদের হামলা, রক্তাক্ত জখম করা এমনকি প্রাননাশের হুমকি প্রদান জোর করে দখল করে আছে জমি।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের প্রভাব খাটিতে জয় এতোদিন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে ফুপুদের ও চাচাদের জমির সীমানায় আসতে দেয় নি। এমনকি ফুপু ও চাচাদের পিতার বসতভিটায় পা রাখতে দেন না আসাদ এবং জয়, জিসান। জয় এখন নিজের ভোল পাল্টে ফরিদপুর ৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে অপকর্মের পায়তারা করছে।

প্রায় ২০ বছর ধরে এমনভাবে অধিকার বঞ্চিত হওয়া গোলাম কিবরিয়া আকরাম, সেলিনা বেগম, মনিরা বেগম, নিলুফা বেগম, ফরিদা বেগম, মৃত গোলাম মোস্তফা আলাউদ্দিন মিয়ার পরিবারের সদস্যবৃন্দ স্থানীয় এমপি নায়াব ইউসুফ এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নিজেদের অধিকারের সম্পত্তি বুঝে পেতে তারা উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

ফরিদপুর জজ কোর্টে বন্টন মামলা, কোতয়ালী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা, আহত মামলা, প্রান নাশের হুমকি ঘটনায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি হওয়া এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার সমূহ।

স্থানীয় কাউন্সিলর খন্দকার সামছুল আরেফিন সাগর জানান, ভাই ও বোনেদের পিতার ওয়ারিশ সম্পত্তির অধিকার বঞ্চিত করে রেখেছেন গোলাম আরেফিন আসাদ। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ করেও সমাধান করা সম্ভব হয় নি। আসাদ কারো কথা শোনেন না, কোন আইনের তোয়াক্কা করেন না।

গোলাম কিবরিয়া আকরাম বলেন, আমি আমার পিতার বসত ভিটায় যেতে পারি না। আমাকের আমার অধিকারের সম্পত্তি বুঝে নিতে গেলেই ভাইয়ের ছেলে জয় ও জিসান মারধোর করে বের করে দেয়। কিছু দিন আগে আমার কন্যাকে মেড়ে জখম করে। আমি মামলা করতে গেলে আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এজন্য পরে মামলা করিনি।

তিনি এসব কথা বলতে বলতেই কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, যেই ভাতিজাদের কোলে পিঠে মানুষ করলাম, বিভিন্ন সময় পড়ালেখার খরচ বহন করলাম সেই ভাতিজারা আমাকে মারতে তেড়ে আসে। আমি আশলে স্তম্ভিত, হতভম্ব, কি দুর্ভাগা কপাল আমার এমন কথা বলে তিনি আর কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ফরিদপুর জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট আবু শাহাদাত খান সায়েমকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয় জয় ও জিসান। আওয়ামী আমলে তিনি তার মায়ের ওয়ারিশ সম্পত্তি দখল নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল করতে গেলে তখন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে তাকে। সে ঘটনায় এখনও মামলা চলমান রয়েছে।

ফরিদা বেগম, নিলুফা বেগম, সেলিনা বেগম, মনিরা বেগম বলেন, আমরা পিতার বসত ভিটায় যেতে পারি না, অন্যান্য ওয়ারিশ সম্পত্তিও দখল পাই না। আমাদের অধিকার কেউ ফিরিয়ে দিতে সহায়তাও করে না। আসাদের পুত্র জয় ও জিসান কয়েক বোনের গায়ে হাত তুলে বাড়ি থেকে বেড় পর্যন্ত করে দিয়েছে। আপন ফুপুকে চড় থাপ্পর মাড়তে একটুও হাত কাপে নি জয় ও জিসানের।

ফরিদা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে জয় ফোন করে তাদের নামে আমার সম্পত্তি টুকু লিখে দিতে বলেন, না দিয়ে আমার এক মাত্র পুত্রকে মেরে আমার কোন ওয়ারিশ না রাখার হুমকি প্রদান করে। আমি খুবই ভীতসন্ত্রস্ত জীবন পার করছি। কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ প্রায় ২০/২৫ বছর ধরে এমনভাবে নির্যাতন হচ্ছি, অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি।

তিনি ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর ফ্যাসিস্টদেরও পতন চান এবং স্থানীয় এমপি নায়াব ইউসুফ এর নিকট অধিকার ফিরে পেতে আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওয়ারিশের অধিকার বঞ্চিত করা গোলাম আরেফিন আসাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ২০ বছর আগে পারিবারিক ভাবে আমাদের জমির একটি বন্টননামা হয়। তা আমার বোনরা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বোন নিলুফা আমার ৭ শতাংশ জমিতে বসতবাড়ি করে বসবাস করছে, মাঠের আরো দুইটি জমি বিক্রি করে দিয়েছে। মনিরা আমার একটি জমি দখল করে বাড়ি করেছে। মেঝ ভাইয়ের পরিবার ১৫ শতাংশ জমির বিপরীতে ৩৭ শতাংশ জমি দখল করে খাচ্ছে।

তিনি জানান, আমার একটি বন্টন মামলা চলমান আদালতে। যদিও তিনি তার এসব অভিযোগের সকল কাগজপত্র দেখানোর কথা দিয়ে থাকলেও আর তিনি যোগাযোগ করেন নি।

বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় এসআই শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছেন। তিনি জানান, পিতার ওয়ারিশ সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা, ভাই ভাই ঝামেলাসহ আরো অনেক অভিযোগ আছে আসাদ ও তার ছেলে জয় ও জিসানের বিরুদ্ধে। আমরা দুই পক্ষকেই বিষয়গুলো নিয়ে থানায় ডেকে সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি, কিছু সমস্যা সমাধানও করেছি। আর যাতে পারিবারিক বিষয়ে সমস্যা না হয় তার জন্য সতর্ক করেছি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...