Logo Logo

রামুতে পূজার ফুল তোলতে গিয়ে হত্যার শিকার বৃদ্ধ, হত্যার পর থানা আত্নসমর্পণ করে খুনি।


Splash Image

কক্সবাজারের রামুতে মন্দিরে পূজা দিতে ভোরে ফুল তোলাতে যান কালু বড়ুয়া নামের এক বৃদ্ধ।এসময় তাকে জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা এবং পরে হত্যাকারী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।


বিজ্ঞাপন


গত ১৩ ইং এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি (সোমবার) ভোর পাঁচটার সময় রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পূর্ব মেরংলোয়া বড়ুয়া পাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা টি ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানাজায় ঘটনার দিন ভোরে প্রতিদিনের ন্যায় মন্দিরে পূজা দিতে ফুল বাড়ির বাহিরে যায় কালু বড়ুয়া (৭০)।এ সময় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী বাবু বড়ুয়া প্রকাশ টাম্বু বড়ুয়া এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানের সামনে ভাঙচুর চালান। নিহত কালু বড়ুয়া হঠাৎ এমন তাণ্ডব দেখে ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবু বড়ুয়া প্রকাশ (টাম্বু বড়ুয়া) হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে কালু বড়ুয়া কে তার হাতে থাকা দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে কালু বড়ুয়ার বুকের ওপর বসে গলায় দা দিয়ে জবাই করে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে,ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়।খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে, এই সময় সন্ত্রাসী বাবু বড়ুয়া প্রকাশ টাম্বু বড়ুয়া একটি ছুরি নিয়ে নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এলাকাবাসী জানান আত্মসমর্পণের সময় তার হাতে থাকা ছুরিটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র নয়।অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাটি সংঘটিত হয়েছে বলে সন্দেহ করেন স্থানীয়রা।

নিহতের স্ত্রী অমিতা বড়ুয়া জানান আমার স্বামী কালু বড়ুয়ার হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তাদের ভাষ্য,কালু বড়ুয়ার সাথে টাম্বু বড়ুয়ার আগে কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে হামলার শিকার হন স্থানীয় সংবাদ কর্মী উচ্ছ্বাস বড়ুয়া।

উচ্ছ্বাস বড়ুয়া জানান আমি হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় লাশ দেখে রামু থানাকে অবহিত করি এবং ভিডিও ধারণ করতে থাকি, এ সময় প্রান্ত বড়ুয়া (ডংগ্লস) ও বাদল বড়ুয়া (বাদু)ভিডিও ধারণে বাধা দেয়,ওই দুজন উত্তেজিত হয়ে জনসম্মুখে তাকে মারধর করেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।

মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি হামলাকারীরা

টাম্বু বড়ুয়ার লোক।পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঐ সাংবাদিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান প্রান্ত বড়ুয়া ও বাদল বড়ুয়া কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া কে আটক করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মার্গে পাঠানো হয়েছে।আটককৃত আসামি ও ঘটনার সাথে জড়িদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...