বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পুনরায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকেই বেছে নিতে চাইছে দুই দেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও দুই দেশই তাদের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী।
এই বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বিভেদ ও মতপার্থক্য নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সংকটের মূলে রয়েছে পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। এই দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চললেও কোনো কার্যকর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এর পরপরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীও দেশটিতে 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন' পরিচালনা করে।
যুদ্ধের একদম শুরুর দিকেই হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘ ৩৭ বছরের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এছাড়া সামরিক অভিযানে দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
দীর্ঘ ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গত ৭ এপ্রিল উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় উভয় পক্ষ। বর্তমান উদ্যোগটি সেই অচলাবস্থা কাটানোরই একটি নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...