Logo Logo

কুয়াকাটায় রাখাইনদের জলকেলি উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই’, বর্ষবরণে মেতেছে তরুণ-তরুণীরা


Splash Image

পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন আশার বার্তা নিয়ে কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই’। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে অংশ নিয়ে আনন্দে মেতেছেন রাখাইন তরুণ-তরুণীরা। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সাগরকন্যা কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মহিলা মার্কেট প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন সাদেক।

উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটা রাখাইন পাড়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই জলকেলিতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে। রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি বরগুনা ও আশপাশের অঞ্চল থেকেও অনেকে অংশ নেন এই আয়োজনের আনন্দে।

জলকেলির মূল আকর্ষণ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা নৌকায় রাখা পানি একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নাচ-গান ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কিশোর-কিশোরীরা দলবেঁধে জলকেলিতে অংশ নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

রাখাইন তরুণী মিয়াশু বলেন, “সাংগ্রাই আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা বিশ্বাস করি, পানির মাধ্যমে পুরোনো দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে যায় এবং নতুন বছর শুরু হয় আনন্দের মধ্য দিয়ে।”

দর্শনার্থীরাও এই উৎসব উপভোগ করে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। ফরিদপুর থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “এ ধরনের ব্যতিক্রমী উৎসব আগে দেখিনি, খুব ভালো লাগছে।”

উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিন জলকেলির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাখাইন পরিবারগুলোতেও তৈরি করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি, যা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ জানান, রাখাইনদের এই সাংগ্রাই উৎসব স্থানীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই জলকেলি উৎসব। আয়োজকরা বলছেন, এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...