বিজ্ঞাপন
সমাবেশে আবেগঘন বক্তব্যে মাসুমা হাদি বলেন, "যে ওসমান হাদি সমগ্র বাংলাদেশে ইনসাফ কায়েম করতে চেয়েছিলেন, আজ তার হত্যার ইনসাফ কোথায়? ভারতের সহযোগিতায় এদেশীয় মীরজাফরদের হাত ধরে হাদিকে হত্যার পর খুনিরা কীভাবে সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে গেল, রাষ্ট্রকে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভাড়াটে খুনি ফয়সাল টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এই হত্যার নেপথ্য নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচনের জোর দাবি জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, "আধিপত্যবাদবিরোধী নেতা হাদিকে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন যেমন শতবারের বেশি পেছানো হয়েছে, হাদি হত্যার প্রতিবেদনও ইতিমধ্যে ১৩ বার পেছানো হয়েছে। যে মানুষটি ইনসাফের কথা বলতেন, তার বিচারেই রাষ্ট্র ইনসাফ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।"
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন হাদির ভগ্নীপতি মো. আমির হোসেন হাওলাদার, ববি জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন, সদস্য সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম শিকদার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সিরাজুল ইসলাম। বক্তারা অবিলম্বে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে ভোলা রোডসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলজুড়ে শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। হাদির জন্মস্থান বরিশাল থেকে শুরু হওয়া এই বিচার চাওয়ার আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...