Logo Logo

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, চালু হলো পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড


Splash Image

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। হাসপাতালের বিভিন্ন শয্যায় হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। অনেক অভিভাবককে শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে দেখা যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মোট ৯৪ জন রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৭২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, এবারের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা। তাদের মতে, এই বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি থাকাও সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন তারা।

দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুর শরীরে হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর, লালচে দানা, রেশ কিংবা ফুসকুড়ি দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সহজেই একজনের শরীর থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অন্যান্য রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের আটতলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। মূল শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও স্থান সংকুলান না হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রাখার এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত রোগীদের পৃথকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে টিকা না নিলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।”

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত রোগীকে আলাদা রাখা এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...