বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপাচার্যের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তালাগুলো সরিয়ে ফেলেন। তবে শিক্ষকদের ডাকা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে এদিনও ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতির দাবিতে গত সোমবার (১১ মে) থেকে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রেজিস্ট্রার ও অর্থ দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। তালা দেওয়ার তিন দিন পর উপাচার্যের নির্দেশে তা অপসারণ করা হলো। এর আগে বুধবার ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে এক বৈঠকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা খোলার দাবি জানিয়েছিলেন।
শিক্ষকদের এই টানা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৪৬টি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা তীব্র সেশনজটের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে স্নাতক (অনার্স) চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; সময়মতো পড়াশোনা শেষ করতে না পারায় তারা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, "অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনার্স শেষ করে ফলাফল পেয়ে গেলেও আমাদের পরীক্ষাগুলো আটকে আছে। শিক্ষকদের এই আন্দোলনে দিনশেষে আমরাই ভুক্তভোগী হচ্ছি।"
বিভাগীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমঝোতার চেষ্টা সত্ত্বেও শিক্ষকরা আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, "১২ জন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা সমীচীন নয়। ২৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১২ জনের পদ বর্তমানে নেই, যা ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার বিষয়। আমরা শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।"
অন্যদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "আমরাও দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে চাই। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলো পরবর্তীতে আমাদেরই নিতে হবে, তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হোক তা আমরা চাই না।"
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, "আমি গতকালও শিক্ষকদের সাথে বসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা সাড়া দেননি। আজ বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য এলেও শিক্ষকরা আসেননি। তাই প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে তালা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি।"
বর্তমানে দপ্তরের তালা খোলা হলেও শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...