বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৫ মে) জুম্মার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এক নজিরবিহীন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায়ের এই ক্ষণে প্রিয় উপাচার্যকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের যেমন আবেগ উপচে পড়ে, তেমনই নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি উপাচার্য নিজেও।
উপাচার্যের এমন বিরল ও মানবিক বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট ও স্মৃতিচারণ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিউল শিকদার নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, "এমন সাদামাটা মানুষ আসলে পাওয়া কঠিন, যার মধ্যে কোনো প্রশাসনিক দাম্ভিকতা ছিল না, ছিল না কোনো বাড়তি সুবিধা নেওয়ার লোভ। পরিশেষে স্যার, আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন।"
শাহাদাত নামের আরেক শিক্ষার্থী তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন, "যোগ্যতার চুলচেরা বিশ্লেষণে যাব না, তবে মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত খাঁটি ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুর মতো মিশেছিলেন। ভালো থাকবেন স্যার।"
উপাচার্যের অনন্য মানবিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার এক চমৎকার গল্প তুলে ধরেছেন সিমান্ত নামের এক শিক্ষার্থী। নিজের হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের সাথে ঘটে যাওয়া এক স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, একদিন তাঁর পোষা বিড়ালটি হারিয়ে গেলে তিনি সরাসরি ভিসি স্যারের রুমে যান। সব শুনে উপাচার্য পরম মমতায় বলেন, "আমার বিড়ালগুলো তো এখনো ছোট বাচ্চা। এখন মায়ের কাছ থেকে আলাদা করলে ওরা কষ্ট পাবে। তুমি এক মাস পর আমার সাথে যোগাযোগ করো, ওরা একটু বড় হোক।"
সিমান্ত আরও জানান, এর কয়েকদিন পরই স্যার সিমান্তের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাকে খুঁজে বের করার জন্য বার্তা পাঠান। একজন উপাচার্য হয়েও শিক্ষার্থীর বিড়াল হারিয়ে যাওয়ার কষ্টে নিজের শখের বিড়াল উপহার দিতে উন্মুখ হয়ে খোঁজাখুঁজি করছেন—এই বিষয়টি যে কতটা সুন্দর ও মানবিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও, মানুষ হিসেবে ড. তৌফিক আলমের অমায়িক ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করেছে। প্রশাসনিক চেয়ারের কঠোরতা ছাপিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে একজন পথপ্রদর্শক ও সত্যিকারের অভিভাবক হিসেবে যে স্থান করে নিয়েছেন, এই অশ্রুসিক্ত বিদায় তারই এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...