Logo Logo

রিক্সা চুরির সন্দেহে হত্যার অভিযোগ

গোপালগঞ্জে গ্যারেজ মালিকের ফ্ল্যাট থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার


Splash Image

গোপালগঞ্জ শহরের মধ্যমিয়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে আলামিন শেখ (৩০) নামের এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রিকশা চুরির সন্দেহে তাকে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে ফেলে রাখা হয়েছে বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (২০ মে) রাতে এই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আলামিন শেখ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় গ্রামের মৃত ফায়েক শেখের ছেলে। তিনি শহরের শরীফ লিটন সড়কের ডা. এম ডি রবিউল ইসলাম তুহিনের বাড়ির কেয়ারটেকার ও রিকশা গ্যারেজের মালিক মো. কামরুল ঠাকুরের গ্যারেজের রিকশা ভাড়ায় চালাতেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার কামরুল ঠাকুর পলাতক রয়েছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে কামরুল ঠাকুরের গ্যারেজ থেকে একটি রিকশা চুরি হয়। এই চুরির ঘটনায় রিকশাচালক আলামিনকে সন্দেহ করা হচ্ছিল। স্বজনদের অভিযোগ, এর জেরে বুধবার বিকেলে আলামিনকে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে প্রচণ্ড মারধর করা হয়।

নিহতের মা আমেনা বেগম ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, বুধবার আসরের সময় কামরুল ঠাকুর তাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বলেন, ‘তোমার ছেলেকে তোমার হাতে বুঝিয়ে দিয়ে তুমি একটু আসো।’ এই খবর পেয়ে তিনি রাতে শহরের ওই ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে কামরুলের ছেলে ভেতর থেকে দরজা খুলে দেয়। ভেতরে প্রবেশ করেই তিনি বাথরুমের মধ্যে আলামিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই কামরুল তার ছেলেকে নিয়ে দ্রুত বাসা থেকে পালিয়ে যান।

ওই বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া লিমা বেগম জানান, ওপর তলা থেকে কান্নার শব্দ শুনে তিনি সেখানে যান এবং আলামিনের মাকে দেয়ালে মাথা ঠুকে কাঁদতে দেখেন। বাসার অন্য কাউকে না পেয়ে বাথরুমে উঁকি দিয়ে তিনি আলামিনের মরদেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কামরুল ঠাকুরকে ফোনে বিষয়টি জানিয়ে পুলিশে খবর দিতে বললে, কামরুল লোক পাঠানোর কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ, পিবিআই ও ডিবি পুলিশের পৃথক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, মধ্যমিয়াপাড়ায় কাজী অফিসের সামনে একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক আলামত পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...