বিজ্ঞাপন
সারা বছর কাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই প্রাচীন পেশায় নিয়োজিতদের মাঝে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। বাজারে নতুন সরঞ্জামের যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি পুরোনো দা, বটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার জন্য ক্রেতারা ভিড় করছেন। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলের মানুষের কাছেই ঐতিহ্যবাহী এই হাতে তৈরি সরঞ্জামের কদর এখনও কমেনি।
কামারপল্লীর বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া আকার ও মানভেদে দা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কারিগরদের দাবি, বাজারে লোহা ও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের চেয়ে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে।
স্থানীয় প্রবীণ কামার সত্য রঞ্জন দাশ জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মেশিনে তৈরি সরঞ্জামের আধিপত্য বাড়ায় স্বাভাবিক সময়ে তাদের কাজ অনেকটাই কমে গেছে। তবে কুরবানির এই মরসুমে ব্যস্ততা বাড়ায় ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। বছরের এই বিশেষ সময়ের উপার্জনকে পুঁজি করেই তারা অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
পণ্য কিনতে ও শান দিতে আসা শহরের নবীনবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল মোল্লা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কুরবানির প্রস্তুতি হিসেবে তিনি চাপাতি ও ছুরিতে ধার দিতে এসেছেন। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশু কুরবানির জন্য ধারালো সরঞ্জামের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে মো. শাহাবুদ্দিন সুজা নামের আরেক ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সরঞ্জামের দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও মান ভালো হওয়ার কারণে মানুষ এখনও কামারদের তৈরি জিনিসই বেশি পছন্দ করছেন।
আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে কামারশিল্পটি এখন বিলুপ্তির হুমকিতে পড়লেও মূলত কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই এটি টিকে রয়েছে। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে বাড়তি কাজ ও ভালো উপার্জনের মাধ্যমে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন গোপালগঞ্জের কামাররা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...