বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সুরুজের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িত দালাল চক্রের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে সুরুজ কাজীকে রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে ভালো বেতনের চাকুরির প্রলোভন দেখান একই গ্রামের দালাল দিলু মাতুব্বর এবং ঢাকার জাফর মাতুব্বর। তাদের আশ্বাসে ও চুক্তির ভিত্তিতে পরিবার বিভিন্নভাবে ৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেয়। এরপর জাফর মাতুব্বরের এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমান সুরুজ।
সেখানে পৌঁছানোর পর সুরুজ বুঝতে পারেন যে তিনি বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ও চুক্তির বেড়াজালে বাধ্য হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয় তাকে। এরপর তাকে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সুরুজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা ও তার সহপাঠী সাব্বির মাতুব্বর। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি। সেই বার্তায় সাব্বির যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা তুলে ধরার পাশাপাশি ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণে সুরুজের নির্মম মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে অবহিত করেন।
নিহত সুরুজের বড় বোন শারমিন আক্তার ক্ষোভ ও আহাজারি প্রকাশ করে বলেন, গ্রামের দিলু দালাল আর ঢাকার জাফর দালাল মিলে তার ভাইকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি জড়িত দালালদের ফাঁসি ও ভাইয়ের মরদেহ ফেরত চান।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল-নোমান এই বিষয়ে জানান, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে সুরুজ নামে এক যুবক মারা গেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁর মরদেহটি কীভাবে দ্রুত দেশে আনা যায়, সেই বিষয়ে প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই যুবকেরা কীভাবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছেন তা প্রশাসনের জানা নেই। তবে প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চল থেকে অনেকেই রাশিয়ায় গিয়ে এমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। এটি একটি বড় ফাঁদ উল্লেখ করে তিনি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এ ধরনের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...