বিজ্ঞাপন
তিনি গত কয়েক বছর ধরে স্ট্রোকজনিত কারণে নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তিনি পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরল এলাকার বাসিন্দা মৃত কোনা গাজীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী কবি মুনসুর হাসানের লেখা কবিতা ও সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হতো। সাহিত্য ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক কবি’র বিরল উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কবি পরিষদ থেকে তিনি ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি লাভ করেন। সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাইকগাছা নাগরিক সমাজ, পাইকগাছা অঙ্কুর পরিষদ ও সুকান্ত সাংস্কৃতিক পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করে।
তাঁর রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘স্মৃতির নীল পদ্ম’। এছাড়া তাঁর অন্য দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘বিশ্ব রূপের বাংলাদেশ’ এবং ‘দানবীয় মেহের মুসাল্লি’। তিনি একাধারে নাট্যকার, গীতিকার, কথাসাহিত্যিক এবং স্বনামধন্য আঞ্চলিক কবি ছিলেন। সমাজ ও সাহিত্য সেবায় নিবেদিত এই গুণী মানুষটি পাইকগাছা মৌচাক সাহিত্য সংসদের সভাপতি, কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক, সাহিত্য দর্পণের আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য ও পাইকগাছা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি সরল দীঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ বার নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শিক্ষাঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমের বাসভবন সংলগ্ন মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় সাবেক পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সাবেক প্যানেল মেয়র এস এম এমদাদুল হক, সাবেক কমিশনার আনিছুর রহমান মুক্ত, এস এম তৈয়েবুর রহমান, জামায়াত নেতা আসাদুল হক, মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, রহমত আলী গাজী, মুনসুর আলম, কবি এমদাদুল হক, মোতালেব গাজী, আব্দুল আজিজ গোলদার অংশ নেন।
এছাড়াও জানাজায় সাংবাদিক আলাউদ্দিন সোহাগ, আসাদুল ইসলাম, সেলিম জাহাঙ্গীর সুমন, লুৎফর রহমান, গোলাম মোরশেদ, মো. আতাউর রহমান, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মাওলানা বাহরুল ইসলামসহ স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ ও ভক্ত-অনুরাগী অংশগ্রহণ করেন। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম।
তাঁর মৃত্যুতে পাইকগাছার সুধী সমাজ ও সাহিত্য অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...