বিজ্ঞাপন
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে পাইকগাছা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিববাটী মৌজায় বিআরএস ৮২৯ খতিয়ানের ৪৪ দাগে ১১৯৪ নম্বর রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ৪ শতাংশ জমি কেনেন ব্যাংক কর্মকর্তা সমীরণ কুমার মন্ডল। জমি ক্রয়ের পর মূল মালিক দীপঙ্কর মন্ডল দিপু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) অধিগ্রহণকৃত (একর) জমিসহ সমীরণকে জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ক্রেতা সমীরণ ওয়াপদার সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমি নিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমীরণ সরকারি সার্ভেয়ার (আমিন) দ্বারা বিআরএস ম্যাপ অনুযায়ী জমিটি পুনরায় পরিমাপ করান এবং ওয়াপদার সরকারি অধিগ্রহণকৃত অংশটি সুনির্দিষ্ট করেন। সরকারি পরিমাপ অনুযায়ী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বর্তমান চলাচলের ওয়াপদা রাস্তার স্লোব (ঢাল) থেকে ৪৬.৫ ফুট জায়গা সরকারি একোয়ারকৃত অংশ। দলীলের নকশা ও চৌহদ্দী অনুযায়ী ৪৪ দাগের বৈধ অংশ থেকে সমীরণ জমি বুঝে নিতে চাইলে, মূল মালিক দীপঙ্কর মন্ডল দিপু সেখান থেকে জমি দিতে স্পষ্ট অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা সমীরণ কুমার মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমি নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে বৈধ জমি কিনেছি, আমি ওয়াপ্দার সরকারি একোয়ারকৃত জায়গা কেন নিতে যাব? ওয়াপদার অংশ বাদে আমার কেনা ৪ শতাংশ জমি বুঝে পেতে আমি বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছি। কিন্তু বিক্রেতার অসহযোগিতায় কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে থানার শরণাপন্ন হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জমির মূল মালিক দীপঙ্কর মন্ডল দিপু দাবি করেন, “আমি বিআরএস খতিয়ান অনুসারেই জমি বিক্রি করেছি। সে অনুযায়ী ওয়াপ্দার একোয়ারকৃত ৩৮ ফুট জায়গা বাদে তাঁকে জমি বুঝেও দিয়েছি। কিন্তু এখন তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জমি বুঝে নিতে চাচ্ছেন না।”
পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন আহম্মেদ লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি নিয়ে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। খুব দ্রুতই উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে। এরপর জমি ও দলিলের কাগজপত্র সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...