বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুপুরের তীব্র দাবদাহে এবং মাগরিবের নামাজের সময় টানা ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। অনেক সময় চোখের পলকে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করার ফলে গ্রাহকদের দামি ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আকাশে সামান্য মেঘ বা মৃদু বাতাস হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া এখানকার বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যুতের এই চরম সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাইকগাছা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে কাস্টমার বসতে পারে না, ফলে বেচাকেনা একবারে কমে গেছে। বাজারের ইলেকট্রনিক মেকানিক সুব্রত জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় টিভি, ফ্যানসহ কোনো কিছু মেরামত করা যাচ্ছে না, যার কারণে গ্রাহকদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন হিমায়িত চিংড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা; বিদ্যুৎ সংকটে তীব্র বরফ সংকট দেখা দেওয়ায় এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক খাত চিংড়ি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে পাইকগাছা জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদন বাড়েনি। জাতীয় পর্যায় থেকে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অঞ্জন কুমার সরকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, “পাইকগাছা উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। অথচ এই চাহিদার বিপরীতে আমরা সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। কোনো কোনো সময় সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ২ মেগাওয়াটে। আমরাও গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে চাই, কিন্তু চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অত্যন্ত কম হওয়ায় তা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো লোডশেডিংয়ের কারণে মাঠপর্যায়ে আমাদের সাধারণ মানুষের গালমন্দ শুনতে হচ্ছে।”
এদিকে পাইকগাছা-কয়রা অঞ্চলের এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মহান জাতীয় সংসদে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। একই সাথে বিদ্যুৎ সংকটে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী মহল এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...