Logo Logo

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং !


Splash Image

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, যা সংস্কারকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই সড়কের এমন বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় এবং ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পান ঠিকাদার মো. চাষী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুসরণ না করে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ‘ম্যানেজ’ করে কয়েক দিন ধরে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সড়কের প্রায় ৯৮ শতাংশ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে টান দিলে রাস্তার কার্পেটিং উঠে আসে।

এ সময় স্থানীয় ননা মিয়ার দোকানের সামনে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার বিকেলে ঠিকাদারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের গালমন্দ করে চলে যায়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনার নেপথ্যে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইনের ভূমিকা রয়েছে এবং বিল পরিশোধে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য দেবেন না।

স্থানীয় যুবক মো. সাজু বলেন, “এই সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত পুরুত্বও বজায় রাখা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকার এত টাকা খরচ করে রাস্তা নির্মাণ করলেও এলজিইডি ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে সেই অর্থের অপচয় হয়েছে। যেখানে হাত দিয়ে রাস্তার কার্পেট তোলা যায়, সেখানে ভারী যানবাহন কীভাবে চলবে?”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে গেছি। যে অভিযোগ উঠেছে, এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো অভিযোগের পর্যায়ে পড়ে না। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ইতোমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করুন, তখন তথ্য দেওয়া হবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, “এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...