বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, মূল সড়কের ওপর সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায় শিক্ষা সফরে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সিংড়া শালবনে আসতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় পর্যটকদের গাড়ি দূরে রেখে দীর্ঘ পথ হেঁটে উদ্যানে প্রবেশ করতে হয়, যা ভ্রমণকে কষ্টসাধ্য করে তুলেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয়দের প্রতিদিন প্রায় ৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর অনেকবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।”
কৃষক হরিস চন্দ্র বলেন, “আগে খুব সহজেই ধান, ভুট্টা, গম ও সবজি বাজারে নিতে পারতাম। এখন অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, “ভাঙা সেতুর কারণে মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে তাকে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
গৃহিণী শাহিদা বেগম বলেন, “কোনো রোগী অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে ও বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, “২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙে পড়ে। আমরা বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে চলতি মাসের মধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে সেখানে একটি বেইলি সেতু (লোহার ব্রিজ) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”
প্রায় ৩০৫ দশমিক ৬৯ হেক্টর আয়তনের সিংড়া জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের অন্যতম দর্শনীয় প্রাকৃতিক বনভূমি। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু জনদুর্ভোগই কমবে না, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...