বিজ্ঞাপন
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম হাসিনা বেগম (৩৫)। তিনি মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে এবং সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসিনা বেগমকে আটক করেন সদর মডেল থানার আওতাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানার মূল ভবনটি বর্তমানে নির্মাণাধীন থাকায় ওসির বাসভবনের নিচতলায় সাময়িকভাবে থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেখানে কোনো স্থায়ী হাজতখানা না থাকায় আসামিকে বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে কক্ষের জানালার গ্রিল ভেঙে হাসিনা বেগম কৌশলে পালিয়ে যান।
পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে পরের দিন শুক্রবার থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে থানা থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে শুক্রবার রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার কারণ ও দায় নিরূপণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই আসামিকে পুনরায় আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযানে নামে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পলাতক হাসিনা বেগমকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সাময়িক থানা ভবনের একটি কক্ষের জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে মাদারীপুরের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...