বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নে অবস্থিত বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার একতলা ভবনেই ৩৬০ শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নূরানী বিভাগে পড়াশোনা করে প্রায় ২০০ শিশু শিক্ষার্থী। এছাড়া দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৩০ জন শিক্ষার্থী আবাসিকভাবে এখানে থেকে লেখাপড়া করছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। আর্থিক সংকটের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও নিজস্ব উদ্যোগে স্থায়ী সমাধান করতে পারছে না।
মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নূরানী বিভাগটি সবার আগে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা এলেই পাঠদান ব্যাহত হয়। তিনি দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারি সহায়তা কামনা করেন।
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী হুজাইফা ইসলাম জানায়, গত বছরের মতো এবারও তাদের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। এজন্য শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারছেন না, পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই প্রতিষ্ঠানটিকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়। জমে থাকা পানি বের করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে আর পানি না জমে, সে লক্ষ্যে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...