Logo Logo

বেহাল সড়কে বিপর্যস্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র


Splash Image

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসির (বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন) প্রধান সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি শত শত মৎস্য শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ট্রলার, পাইকার ও মাছবাহী যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিএফডিসির পরিবর্তে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে মাছ বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


বিএফডিসি মৎস্য শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, এখানে নিবন্ধিত শ্রমিকের সংখ্যা ৬৫১ জন। মাছ ধরার মৌসুমে গড়ে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। তবে সড়কের দুরবস্থার কারণে বর্তমানে অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হক বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মৎস্য বাজারে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। অথচ মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ট্রলার, পাইকার ও পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারছে না। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

পানি কমিটির বরগুনা জেলা সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন এসমে বলেন, পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিএফডিসিকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। কিন্তু মাত্র আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে মাছ বিক্রি হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় জেলে মো. ছগির হোসেন বলেন, পাথরঘাটার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই মৎস্য বাজার। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় আমরা নিয়মিত কাজ পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে।

মৎস্য ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফারুক আকন বলেন, মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কের কারণে পুরো বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রলার, পাইকার ও পরিবহন আসতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, শ্রমিকরা বেকার হচ্ছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, পাথরঘাটার অর্থনীতি সচল রাখতে হলে বিএফডিসির সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

পাথরঘাটা মাঝি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল বলেন, পাথরঘাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০০টি মাছ ধরার ট্রলার এবং সাড়ে ৮ হাজার জেলে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিএফডিসির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। এতে শত শত ট্রলার মালিক ও হাজার হাজার জেলে চরম সংকটে পড়বেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বিএফডিসির সড়কটি মাছ পরিবহনের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক ট্রলার অন্যত্র মাছ বিক্রি করছে। এতে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন এবং পাথরঘাটার ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

বিএফডিসি পাথরঘাটার ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জি. এম. মাসুদ শিকদার জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ১ হাজার ৬৫৯ মেট্রিক টন অন্যান্য মাছ বিক্রি হয়েছে। এসব মাছ বিক্রি থেকে প্রায় ১ হাজার ৫৫১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ২৪০ টাকার লেনদেন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধান সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে ট্রলার, পাইকার ও পরিবহন সহজে চলাচল করতে পারবে। এতে মাছ বিক্রির পরিমাণ বাড়বে, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

পাথরঘাটা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে প্রকল্প (স্কিম) পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক তাপস পাল বলেন, সড়কটির জন্য সরকারি বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জেলে, শ্রমিক ও ট্রলার মালিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সচল রাখতে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ও হাজারো মানুষের জীবিকা রক্ষায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...