বিজ্ঞাপন
গত বুধবার (১৫ জুলাই) ইউনিয়ন পরিষদের এই গোপন অনিয়মের বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ জুন ৪৬.৭.৭৭১৯০.৪০.২০২৪-৯২ নং স্মারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিবিধ পণ্য পরিবহন পারমিট ফিস ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দরপত্র গ্রহণের সময়সীমা ছিল ২১ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত। সিডিউল বিক্রির শেষ সময় ২৯ জুন এবং দরপত্র খোলার তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০ জুন। ইজারা প্রক্রিয়ায় মোট ১১ জন দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বোতল গ্রামের নেজামদ্দীনের ছেলে আতাউর রহমান ১৬০০০১৪ নং আইডিতে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা দর দাখিল করে ইজারাদার হিসেবে নির্বাচিত হন।
নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র গৃহীত হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে ইজারা মূল্যের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই বকেয়া টাকা পরিশোধ না করেই ইজারাদার দেদারসে টোল আদায় করে যাচ্ছেন। সরকারি নিয়মনীতির এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘনেও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা বা আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) পরিষদে ইজারা সংক্রান্ত এক আলোচনা সভা চলাকালে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইউপি সদস্য আইবুল হক, আব্দুল মমিন, ওবায়দুল হক এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য রুপি ও নাসিমা বেগম জানান, ইজারা গ্রহিতার সঙ্গে সরকারি দর কমিয়ে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করার বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকার ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে কেবল স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে ইজারা গ্রহিতা আতাউর রহমানের দাবি, তিনি পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষেই টোল আদায় করছেন। তবে অনুমতি পত্র ও টাকা জমার সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা স্ট্যাম্প দেখতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং কোনো যৌক্তিক প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে পরিষদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সভা থেকে জানা গেছে, ইজারা গ্রহিতার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার পরিষদের সরকারি হেফাজতে সংরক্ষিত নেই। চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা তা নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদের কাছে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিষদ কার্যালয় থেকেও এই জমাকৃত টাকার কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
অবশ্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি পরিষদের কোনো পদে নেই এবং তার কাছে কোনো ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার রাখা হয়নি। পরিষদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণেই তার নাম জড়িয়ে এমন নাটক সাজানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন। তিনি জানান, সকলের সম্মতিক্রমেই দাখিলকৃত সরকারি দর কমানো হয়েছে এবং আলোচনার সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিকে উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার আগেই পরিষদের চেয়ারম্যান ছলেমান আলী তড়িঘড়ি করে পরিষদ কার্যালয় থেকে সটকে পড়েন।
সরকারি ইজারার দর কমানোর এই অনিয়মের বিষয়ে তেঁতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা জানান, সরকারিভাবে নির্ধারিত ইজারা দরপত্রের দর কোনোভাবেই কমানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...