নিহত বিএনপি নেতা মো. ফারুক ওরফে শহীদ।
বিজ্ঞাপন
নিহত ফারুক উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং তেঁতুলতলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
আটককৃতরা হলেন একই গ্রামের মুন মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪) এবং আকবর পুত্রের বাড়ির দুলালের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া।
তিনি জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে ফারুককে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেনের ভাষ্য, অভিযুক্ত আকাশ আগে মাঝে মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বেপরোয়া মাদকসেবনের প্রতিবাদ করেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে আলোচনা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতা জহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার অধিকার কারও নেই। এ সময় দোকানে উপস্থিত ফারুক তাকে বলেন, “তুমি কাউকে মানো না।” পরে একপর্যায়ে তিনি আকাশকে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন।
ইমরান আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পরদিন বুধবার সকালে আকাশ কয়েকজনের কাছে তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজারসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পেছন থেকে তার বাবার মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত হয়ে আটক দুই যুবক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...