বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের টিএন্ডটি সড়কের তপন হালদারের ভবনে স্বামী রতন রায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মলিনা রায়। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী এলাকায় অনুষ্ঠিত রথযাত্রা উৎসবে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে যান। রাতে বাসায় ফিরে তারা প্রধান ফটকের দরজা খোলা এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
একপর্যায়ে একটি কক্ষে বস্তাবন্দি অবস্থায় মলিনা রায়ের মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হত্যার পর দুর্বৃত্তরা বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। একই ভবনের আরও তিনটি ফ্ল্যাটেও চুরির বা ডাকাতির ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবনের একাধিক দরজা ভাঙা অবস্থায়ও দেখা যায়।
খবর পেয়ে ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামতও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় মলিনা রায় বাধা দিলে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস. এম. বায়জীদ ইবনে আকবর বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...