বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মো. মোকছেদুর রহমান মাহিন (২০)। তিনি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী বগুড়া শহর থেকে কর্মস্থল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ওভারপাস এলাকায় পৌঁছালে তিনজনের একটি সশস্ত্র ছিনতাইকারী দল তাঁর গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল, দুটি মুঠোফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
ছিনতাই মামলার তদন্ত চলাকালে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে শেরপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বি-ব্লক ফ্লাইওভারের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি ওই ছিনতাই করা মোটরসাইকেলটি নিয়ে ওঁৎ পেতে আছে। তারা ঢাকাগামী একটি চলন্ত ট্রাক থামিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেষ্টা চালায়।
ঠিক ওই সময় ট্রাকের চালক গতি না কমিয়ে সামনে বাড়িয়ে দিলে ট্রাকের ধাক্কায় ডাকাতদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিটকে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মাহিনকে আটকে গণধোলাই দেয়।
খবর পেয়ে শেরপুর থানা–পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার আটক মাহিনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহিন শেরপুরের সেই গভীর রাতের ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সাথে ট্রাকের ধাক্কায় দুর্ঘটনাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটিই আগের দিন ছিনতাই করা সেই বাজাজ ডিসকভার বাইক বলে শনাক্ত করেন। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এ বিষয়ে শেরপুর থানা পুলিশের তদন্ত অফিসার জয়নুল আবেদীন বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া আসামী মাহিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া বাকি মালামাল ও মুঠোফোন উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...