বিজ্ঞাপন
নিহত সিএনজি চালকের নাম দোলন কান্তি দে সুমন (৫১)। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালিয়ে তিনি পরিবার প্রতিপালন করে আসছিলেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন রুবেল (৩০) নামের আরেক সিএনজি চালক। তিনিও একই উপজেলার বাসিন্দা। আহত রুবেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় দোলন কান্তি দে সুমন তাঁর সিএনজি অটোরিকশা (চট্টগ্রাম থ-১৪-৫৭৯৩) নিয়ে মইজ্জ্যারটেক চত্বর এলাকায় ইউটার্ন নিচ্ছিলেন। তাঁর সিএনজির ঠিক পাশেই একটি অন-টেস্ট সিএনজি চালাচ্ছিলেন রুবেল। সে সময় সামনে একটি সিমেন্টবাহী ট্রাক থাকায় দুটি সিএনজিই ধীরগতিতে চলছিল।
ঠিক তখনই শাহ আমানত সেতুর দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস (চট্ট মেট্রো-জ-১১-০৫২৪) পেছন থেকে সিএনজি দুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় পাশাপাশি থাকা দুটি সিএনজি অটোরিকশা মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক দোলন কান্তি দে সুমন। অপরদিকে সিএনজি চালক রুবেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি কর্ণফুলী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মইজ্জ্যারটেক চত্বরটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ব্ল্যাকস্পট হিসেবে পরিচিত। মহাসড়কের পাশে অবৈধ ভাসমান দোকানপাট, অনিয়ন্ত্রিত ইউটার্ন এবং দূরপাল্লার যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে এখানে প্রায়ই ছোট-বড় ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের নজরদারির অভাবকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ বাকার বলেন, “দুর্ঘটনায় একজন সিএনজি চালক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।”
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...