Logo Logo

রাজাপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট; আহত ২


Splash Image

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৬ নম্বর মঠবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর বাঘরী এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ব্যবসায়ী ও তার সৌদি প্রবাসী ছেলেকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেছে। এরপর পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ ১০ লাখ টাকা, প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ ভরি রুপাসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে মুখোশধারী ডাকাত দল। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত ভোর রাতে (১৭ জুলাই) এই নারকীয় ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উত্তর বাঘরী গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিমল হালদার (৬৫) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন তাঁর স্ত্রী আলো রানী হালদার (৫০), ছেলে সৌদি প্রবাসী পলাশ হালদার (৩৫) (বর্তমানে দেশে অবস্থানরত), পুত্রবধূ দীপা মিস্ত্রি (৩০) এবং দুই নাতি প্রাচুর্য হালদার (১২) ও মাধুর্য হালদার (৮)।

ভুক্তভোগী দীপা মিস্ত্রি জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাঁদের কক্ষের দরজায় জোরে জোরে ধাক্কার শব্দ শুনতে পান। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী পলাশ হালদার দরজা খুললে ৭ থেকে ৮ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো রামদা দিয়ে পলাশ হালদারের মাথায় একাধিক কোপ দেয় এবং লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। দীপা মিস্ত্রির চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে বৃদ্ধ ব্যবসায়ী পরিমল হালদার ছুটে এলে ডাকাতরা তাকেও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।

রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অস্ত্রের মুখে আলমারি ও ওয়ারড্রবের চাবি দিতে বাধ্য করে ডাকাত দল। চাবি নিয়ে তারা ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে নগদ ১০ লাখ টাকা, প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ১৫ ভরি রুপা, ৪টি বিদেশি টর্চলাইট এবং ৪টি মোবাইল ফোন (৩টি অ্যান্ড্রয়েড ও ১টি বাটন) লুট করে নেয়। ডাকাতরা ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব ও লুটপাট চালিয়ে রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পেছনের দরজা দিয়ে অনায়াসে পালিয়ে যায়।

ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পরিমল হালদার ও পলাশ হালদারকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনাটির জোরদার তদন্ত চলছে। ডাকাত দলকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এদিকে এই ঘটনার পর থেকে উত্তর বাঘরী এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত ডাকাত চক্রকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...